বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারত বিধ্বস্ত ঢাকায়, বিশ্বকাপের প্রতিশোধ বাংলাদেশের

IND-Alloutবাংলাদেশ ৩০৭/১০ (৪৯.৪)
ভারত ২২৮/১০ (৪৬.০)

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের বিতর্কিত সেই ম্যাচের কথা গত কয়েক মাসে বার বার ঘুরে ফিরে আসছিল। ওই ম্যাচের জেরে আইসিসি সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন মুস্তফা কামল। সেই প্রতিশোধই কি এদিন নিল বাংলাদেশ? বুধবার সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে সেই প্রসঙ্গ। সংবাদ সম্মেলনে এর সঠিক উত্তর পাওয়া না গেলেও বৃহস্পতিবার ১৮ জুন প্রথম ওয়ানডেতে তার জবাবটা ঠিকই দিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আকাশে উড়তে থাকা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে দাঁড়াতে না দিয়ে ৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। ৪৬ ওভার খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে  ভারতের সংগ্রহ ছিলো ২২৮ রান। এ জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ দল। আসলে এই ম্যাচে কিন্তু জয়ের নায়ক কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমান; যিনি অভিষেক ম্যাচে ৫০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন।

এর আগে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ৩০৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুভ সূচনা করেন ওপেনার রোহিত ও ধাওয়ান। তবে দলীয় অর্ধশতকের পরপরই সুযোগ এসেছিলো বাংলাদেশের। রুবেলের বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকের কাছে ক্যাচ দিয়েছিলেন ধাওয়ান। কিন্তু ক্যাচটি গ্লাভসে তালুবন্দি করতে পারেননি মুশফিক। এর পরের ওভারেই মাশরাফির বলে আবারও মুশফিকের কাছে ধাওয়ান ক্যাচ দিলে সেবারও তা ধরতে ব্যর্থ হন মুশফিক।  দুবার সুযোগ হারানোর পর দলীয় শতকের পাঁচ রানের আগে শিখর ধাওয়ানকে ফেরান তাসকিন আহমেদ।  ৩৮ বলে ৩০ রান করে তাসকিনের বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকের গ্লাভসে তালুবন্দি হন ধাওয়ান। ধাওয়ানের পর তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার হন কোহলি। ব্যক্তিগত ১ রান করে তিনিও মুশফিকের গ্লাভসে তালুবন্দি হন। তাসকিনের পর ভারতের ব্যাটসম্যানদের ওপর আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান।

ক্রিজে সেট ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মাকে ৬৮ রানে ফেরালে ওয়ানডে ক্রিকেটে উইকেটের অভিষেক ঘটে এই বাঁহাতি তরুণ পেসারের। রোহিতের পর নতুন ব্যাটসম্যান অজিঙ্কা রাহানেকেও ফেরান মুস্তাফিজুর। ব্যক্তিগত ৯ রানে নাসিরের কাছে ক্যাচ দিলে মুস্তাফিজুরের দ্বিতীয় উইকেটের শিকার হন রাহানে। এরপর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে নামেন দলের অন্যতম ভরসা অধিনায়ক ধোনি। সুরেশ রায়নার সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টায় থাকলেও তাকে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে দেননি সাকিব। দলীয় ১২৮ রানে ব্যক্তিগত ৫ রানে সাকিবের বলে মুশফিকের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ধোনি।  ৩৩ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারালে চাপের মুখে পড়ে ব্যাটসম্যানরা।

চাপ কাটিয়ে ম্যাচে ফিরতে চেষ্টা করেন রায়না ও ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসা জাদেজা। গড়তে থাকেন জুটি। পাঁচ উইকেট হারানোর বাংলাদেশের জয়ের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো তাদের জুটি। ৩৭তম ওভারে এসে মুস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিংয়ে রায়না ব্যক্তিগত ৪০ রানে বোল্ড হলে ভাঙে ৬০ রানের জুটি। পরের বলেই নতুন ব্যাটসম্যান অশ্বিনকেও শূন্য রানে ফেরান এই পেসার। পরের ওভারে হ্যাট্রিকের সুযোগ হারালেও ক্রিজে আরেক সেট ব্যাটসম্যান জাদেজাকে ৩২ রানে আউট করলে অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট ছিনিয়ে নেন মুস্তাফিজুর। দলীয় ২১৯ রানে মাশরাফির বলে আউট হন ১১ রান করে আউট হন মোহিত শর্মা।

এর আগে তামিম-সৌম্যর শুভ সূচনা ও বিপদের মুহূর্তে সাকিব-সাব্বিরের জুটির ওপর ভর করেই বড় স্কোর সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ৪৯.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০৭। ভারতের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে  টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। সফরকারী ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং করতে নেমে শুভ সূচনা করেন ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ভারতের বিপক্ষে ওপেনিং জুটিতে ১০২ রান করেন তারা। এটি এখন পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং রানের জুটি। ৩৮ বলে ৮ চার ও ১ ছয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তোলেন  রায়নার কাছে সৌম্য (৫৪) রান আউট হলে ভাঙে ওপেনিং জুটি। সৌম্যর বিদায়ের পর ৫০ বলে ছয়টি চার ও ‍১ ছয়ে ক্যারিয়ারের ৩০তম হাফ সেঞ্চুরি তোলে নেন তামিম ইকবাল। এরপর ১৫.৪ ওভারের পর বৃষ্টি নামলে বন্ধ থাকে খেলা। এরপর  ৫টা ১০ মিনিটে আবারও শুরু হয় খেলা। বৃষ্টির বাগড়ায় খেলা সাময়িক বন্ধ থাকলেও কোনও ওভার কমানো হয়নি। আবার খেলা শুরুর  পর অশ্বিনের ঘূর্ণিবলে দ্রুত বিদায় নেন তামিম ও লিটন।  দলীয় ১২৩ রানে অশ্বিনের বলে ব্যক্তিগত ৬২ রানে শর্মার কাছে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম । অভিষেকটি ভালো হয়নি লিটনের। দলীয় ছয় রান যোগ করে অশ্বিনের বলে ব্যক্তিগত ৮ রান করে এলবিডব্লু হন তিনি।

এরপর সাকিব নামলে তাকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টায় থাকেন মুশফিক। কিন্তু জুটি থিতু হতে দেয়নি অশ্বিন। তার বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ১৪ রান করে রোহিতের কাছে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক।

অশ্বিনের আঘাতে দ্রুত তিন উইকেট বিদায় নিলে চাপে পড়েন ব্যাটসম্যানরা। পঞ্চম উইকেটে সাব্বির নামলে তাকে নিয়ে জুটি গড়তে থাকেন সাকিব। দলের বিপদের মুহূর্তে ভারতীয় বোলারদের ভালোভাবেই জবাব দিতে থাকেন সাকিব-সাব্বির। দলীয় ২২৯ রানে জাদেজার বলে  ৪১ রানে সাব্বির বোল্ড হলে ভাঙে ৮৩ রানের জুটি।  সপ্তম উইকেটে নাসির নামলে তাকে নিয়েও জুটি গড়ার চেষ্টায় থাকেন সাকিব। ৬৩ বলে ৩ চারের সাহায্যে ক্যারিয়ারের ২৯তম হাফ সেঞ্চুরি করেন এই অলরাউন্ডার। হাফ সেঞ্চুরির পর যাদবের বলে জাদেজার কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাকিব (৫২)। দলীয় ২৮২ রানে যাদবের দ্বিতীয় শিকার হন নাসির (৩৪)। নাসিরের পর ব্যাট করতে নেমে দ্রুত ফিরে যান রুবেল হোসেন(৪)। ম্যাচের দুই ওভার বাকি থাকতে ভুবেনেশ্বরের বলে দুই রান করে আউট হন তাসকিন। শেষ মুহূর্তে মাশরাফি ১৮ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলে মোহিত শর্মার বলে আউট হলে দলীয় তিনশ রান অতিক্রম করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন তামিম ইকবাল, এছাড়া সৌম্য ৫৪ ও সাকিব ৫২ রান করেন। ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন রবিচন্দ্র অশ্বিন। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন ভুবেনেশ্বর ও যাদব।

ক্রীড়া প্রতিবেদক, মিরপুর থেকে
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *