প্রাক্তন স্বামী তিন বন্ধুকে নিয়ে গণধর্ষণ করা মহিলা পুলিশ কর্মীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের অভিযোগ তোলার পর গত ১২ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এই নারী। সেখানে রবিবার ১৪ জুন তার ডাক্তারি পরীক্ষা হয়। মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়।
ধর্ষণের মূল হোতা পুলিশের একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কলিমুর রহমান। ঢাকার খিলগাঁও থানায় কর্মরত কলিমুর লাপাত্তা হয়েছে।
হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়ক ডা. বিলকিস বেগম মঙ্গলবার বলেন, দুপুরে ফরেনসিক বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনটি ওসিসিতে এসেছে। সেখানে নারী পুলিশ কনস্টেবলকে ধর্ষণ করা হয়েছে এমন আলামত পাওয়া গেছে।
ডা. বিলকিস বলেন, মেয়েটি গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কি না, তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।
রাজধানীর একটি থানার ওই পুলিশ সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ওই নারী পুলিশ কনস্টেবলের বড় বোন গত ১৩ জুন তার সাবেক ভগ্নিপতি ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের পাঁচজনের বিরুদ্ধে তার বোনকে ধর্ষনের অভিযোগ এনে খিঁলগাও থানায় মামলা করেন।
খিলগাঁও তিলপাপাড়ার একটি বাসায় গত ১১ জুন রাতে সাবেক স্বামী ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গাজীপুরে মায়ের সঙ্গে থাকেন ওই নারী কনস্টেবল। গত ১১ জুন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসার পর সাবেক স্বামী তাকে ধরে তিলপাপাড়ার ওই বাসায় নিয়ে যায় বলে তার পরিবারের অভিযোগ।
গত ১২ জুন বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার খিলগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেছিলেন, পুরো ঘটনাটি জেনে ব্যবস্থা নেবেন তারা।
ধষর্ণের শিকার ওই মহিলা কনস্টেবলের বড় বোন জানান, চার বছর আগে তার বোনের সঙ্গে ওই এএসআইয়ের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের তিন বছর পর ওই এএসআই ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং ‘আজেবাজে’ কথা বলে বোনকে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছিল। এসব নিয়ে এক বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
ওই ঘটনা নিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে ওই নারী কনস্টেবল আদালতে মামলা করেছিলেন বলেও জানান তার বোন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


