ডিম্পল বরা, নয়াদিল্লি থেকে॥
ঢাকা সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র সুপ্রিমো খালেদা জিয়ার জন্য কুড়ি মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। বিএনপির তরফ থেকে ঐকান্তিক আগ্রহের পরই বৃহস্পতিবার ঢাকা ভারতীয় হাইকমিশনের সুপারিশে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সময় বরাদ্দ করে। সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ জুন বেলা ২টা ২০ মিনিট থেকে পরবর্তী কুড়ি মিনিট খালেদা কথা বলবেন মোদির সঙ্গে। আপাতত এই হচ্ছে সিদ্ধান্ত। এখন মোদির সফরে দেখা না হওয়া পর্যন্ত এতটুকু চূড়ান্ত থাকছে- দিল্লিতে সাউথ ব্লকের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম-কে এই তথ্য জানান।
সূত্রের খবর, ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির নয়জন থেকে এগারোজন নেতা থাকতে পারেন।
মোদির সঙ্গে খালেদার দেখা না হওয়া নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত কয়েকদিনে চাপা উত্তেজনার খবর দিল্লি অবধি এসে পৌঁছায়। মোদি যে কারণে বাংলাদেশের হিন্দু নেতাদের সঙ্গে একেবারে ’মাখামাখি’ করতে রাজি হননি; ঠিক একই কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে দেখা করতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ- হিন্দু নেতাদের বেশি গুরুত্ব দিলে যেমন বিষয়টি অন্যরকম বার্তা দেবে বাংলাদেশের মানুষকে, তেমনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের বিএনপিরও বড় একটি জনসমর্থন রয়েছে। তাই এবারের ঢাকা যাত্রায় যদি খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ না হয় তবে তা আখেরে মোদি সরকার তথা ভারতের বৃহত্তর স্বার্থে খুব লাভ হবে না- এমনটাই মানছেন নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকের কর্মকর্তারা। তবে খালেদা জিয়া যেহেতু গত নির্বাচনে অংশ নেননি, তাই তিনি এমপি নন, তার কোনো সরকারি প্রটোকলও নেই। তবে ভারত চায় তার প্রতিবেশি সবার সঙ্গেই সম্পর্ক ভালো থাকুক। ঠিক সে কারণেই মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট দল বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর নেতাদের সঙ্গেও মোদির পৃথক সাক্ষাত হচ্ছে। তবে জাতীয় পার্টির সভাপতি ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তার স্ত্রী তথা বাংলাদেশের এখনকার বিরোধী নেত্রী রওশন এরশাদের সঙ্গে মোদির সাক্ষাত হবে।
এদিকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সফল ভারত সফরের পর ২০১৩ সালের ৪ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটি হরতালের অজুহাতে বাতিল করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘বিরাট ভুল’ করেছে বলে মনে করছে বিএনপি। তারা এ ধরনের আর কোনো ‘ভুল’ করবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিএনপির তরফ থেকে এমন কথা সাক্ষাতের সময় বলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। বিশ্লেষকরা মনে করে, ওই ভুলের কারণে বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের বড় ধরনের টানাপড়েন চলছে এবং ‘দুঃসময়ে’ দিল্লি কোনো ‘সহানুভূতি’ পায়নি দলটি।
সূত্রের খবর, মোদি-খালেদা বৈঠকে এই টানাপড়েনের শেষ করে বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা আলোচনা করছেন। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রতিবেশী বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা প্রত্যাশা করতে পারে বিএনপি। পাশাপাশি প্রতিবেশী বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংকট উত্তরণে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সহযোগিতা চাইবেন খালেদা জিয়া।
নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকে কী কী বিষয় তুলে ধরা হবে, তার একটি খসড়া তৈরি করেছে বিএনপি। তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি, বাণিজ্য ঘাটতি, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা করবেন খালেদা। একই সঙ্গে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দশম সংসদ নির্বাচন বাতিল করে মধ্যবর্তী নির্বাচন, দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার-হয়রানির বিষয়গুলো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন খালেদা জিয়া। সূত্র এমনটাই জানাচ্ছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, ড. আবদুল মঈন খান, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, সহসভাপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সদ্য কারামুক্ত দলের সহসভাপতি ও সাবেক কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী সহ কয়েক জনের নাম দেওয়া হয়েছে।
নয়াদিল্লি প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


